শুক্রবার, ৩০-সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:৫৩ অপরাহ্ন

ডেঙ্গু ঠেকাতে সচেতন হোন

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের হার কমলেও পরিস্থিতি এখনো স্বস্তিদায়ক হয়নি। প্রতিদিনই কারও না কারও প্রিয়জন ঢলে পড়ছে মৃত্যুর কোলে। এখনও শনাক্ত হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। বিশ্ব পরিস্থিতিও আশাব্যঞ্জক নয়। এদিকে করোনার মধ্যেই দেশে হানা দিয়েছে ডেঙ্গু। এ যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’! রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বস্তুত গত কয়েক বছর ধরেই দেশে ডেঙ্গুজ্বরের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। 
 এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্তরা নাক ও দাঁত দিয়ে এবং কাশির সময় রক্তক্ষরণে ভুগে থাকেন। এছাড়া আক্রান্তরা পিঠ, দাঁত, মাথা ও চোখের পেছনে ব্যথা অনুভব করেন। তাদের মতে, প্রাথমিক অবস্থায় জ্বর প্রশমনে কেবল প্যারাসিটামল এবং প্রচুর পরিমাণে পানি কিংবা শরবত পান করলেই চলে। তবে অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। 
বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্যের প্রধান হুমকি হিসাবে দেখা দিয়েছে এই ডেঙ্গু। গত এক দশকে প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক জরিপে বলা হয়েছে। বিশ্ব জনসংখ্যার পাঁচ ভাগের দুই ভাগই অর্থাৎ ২৫০ কোটি মানুষ ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের ৭০ ভাগই এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোতে বাস করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে দিয়েছে, এখনই সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এ ব্যাপারে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
করোনা ও ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে হলে উভয় ক্ষেত্রে সচেতনতাই মূল নিয়ামক। আমাদের জেগে ঘুমালে চলবে না। দায়িত্বশীল হতে হবে নিজেদের জীবন রক্ষার স্বার্থেই। করোনার ক্ষেত্রে মাস্ক পরা, সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়া, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা, শারীরিক দূরত্ব মানার মতো বিষয়গুলো অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে বাঁচতে হলে এডিস মশা যাতে বংশ বিস্তার করতে না পারে সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে বাসায় খোলা পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে। এছাড়া ফুলের টবে জমে থাকা পানি, টায়ারের খোল, ফ্ল্যাটবাড়ির বারান্দা অথবা পানির চৌবাচ্চায় এই মশা নির্বিচারে বংশ বিস্তার করে। দুঃখজনক হচ্ছে, জেল-জরিমানা করেও বাসাবাড়ি, অফিস-প্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার রাখা যাচ্ছে না। অথচ জীবন যাচ্ছে অনেকের। এজন্য মশক নিধনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে আরও সক্রিয় হতে হবে, যাতে এডিস মশার সংখ্যা বৃদ্ধি না পায়। এ লক্ষ্যে সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে। করোনা ও ডেঙ্গু দুই ক্ষেত্রেই মনে রাখতে হবে-‘প্রতিষেধকের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।’